কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে যা বলা হয়েছে

করোনাভাইরাস মহামারিতে সারাবিশ্বে শিক্ষাখাতে সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট থেকে মুক্তির লক্ষ্যে আমাদের দেশে অনলাইন শিক্ষার কার্যক্রম চলছে। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে এর বিকল্প কিছু ভাবনায় আসেনি। তৃণমূলের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের মাঝে এর ছোঁয়া তেমন পড়েনি। প্রায় পুরো বছরই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদানের বাহিরে।

বাড়িতে বসে পাঠদান চালিয়ে নিতে স্কুল ছাড়া তারা অনেকটাই অসহায়। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বা মূল্যায়ন ছাড়া অটোপ্রমোশন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের লার্নিং গ্যাপ তৈরি হয়েছে। তাদের বর্তমান শ্রেণির পাঠ্যক্রম শেষ না করে পরের ক্লাসে প্রমোশন দিলে তারা ওই ক্লাসের পাঠে দুর্বল থাকবে।

মূল্যায়ন বা পরীক্ষা ছাড়া অটোপ্রমোশন শিক্ষার সংকট দূরীকরণের সঠিক সমাধান নয়। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় দুর্বল থেকে বেড়ে উঠবে এটা মোটেই কারো কাম্য নয়। আমার মতে বিদ্যমান করোনাভাইসের কারণে কড়াকড়িভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জ্ঞান অর্জন যাচাইয়ের জন্য মূল্যায়ন করে অনেকটা জ্ঞান অর্জনমূখী করিয়ে উপরের শ্রেণিতে পড়ার সুযোগ দেয়া যেত।

অধিকতর দুর্বল শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকের সহযোগীতায় নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পাঠ্যক্রমে মনোযোগী হয়ে অটোপাসের সুযোগের পরিবর্তে জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে পরের শ্রেণিতে পড়ার সুযোগ অর্জন করতো। এক্ষেত্রে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় খোলা রাখার বিকল্প নেই। করোনা মহামারির শুরুর প্রাক্কালে যেভাবে সব কিছু বন্ধ বা ২/১টা বাড়ি আক্রান্ত হলে পুরো এলাকা লকডাউন করা হতো, বর্তমানে তা মোটেই সমীচিন নয়। স্বাস্থ্যবিধি সবাইকে কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জনপ্রতিনিধিসহ সকলকে তৎপর হতে হবে।

বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টস, গণপরিবহন, সিনেমা হল, কওমি মাদরাসাসহ প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। শুধু বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি মানবেতর জীবন করতে হচ্ছে কিন্ডারগার্টেনের শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। তাদের বেতন, টিউশনি বিহীন জীবনযাত্রায় এসেছে করুণ পরিনতি।

আগামী প্রজন্মকে জ্ঞান নির্ভর জাতি হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়ি আরোপ করে খোলা প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ দেখভাল। প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থী সংখ্যাকে স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক ভাগ করে শিক্ষকদের স্বক্রীয় তত্ত্বাবধানে শ্রেণির কাজ চালানো যেতে পারে।

কোন অবস্থায় এক সাথে আগের মতো সকল শ্রেণির পাঠদান করা সঠিক হবে না। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষার্থী সংখ্যার ওপর স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে শ্রেণির কার্যক্রম চালু করা হোক। শিশু জীবনুনাশক যন্ত্র ও তাপমাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যালয় প্রবেশ করবে। বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা সতর্কতা সাথে এ দায়িত্ব পালন করবে”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares