ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা নতুন পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নিবেন যেভাবে

এইচএসসির শিক্ষার্থীদের সামনে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ। এই ভর্তি যুদ্ধে সকল শিক্ষার্থীর মেইন টার্গেটে হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষা। এই যুদ্ধে জিততে তাঁদের নতুন রণকৌশল সাজাতে হবে। স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে এখনই সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমই নিয়ে আসতে পারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নের ধরন কেমন হতে পারে বা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন, সে সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারা বলছেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিকের যে সিলেবাস রয়েছে, সেটি থেকেই পরীক্ষার প্রশ্ন আসতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মূল সিলেবাসের ওপর মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

শিক্ষকরা জানান, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। অতীতে যে রকম প্রশ্ন হয়েছে, এবারও সে রকমই প্রশ্ন হবে। মুখস্থ না করে বুঝে বুঝে পাঠ্যপুস্তক ভালোভাবে পড়তে বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তিরা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না হলেও তারা যে সিলেবাসে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে, সেটিকে মুখস্থ না করে আরও ভালো করে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় যে ধরনের প্রশ্ন আসে, তা মুখস্থনির্ভর না। যদি কোনও শিক্ষার্থী মুখস্থ করে, তাহলে এত বড় সিলেবাস সে শেষ করতে পারবে না। সে জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভালো করে বুঝে পড়ার প্রয়োজন।’

ইতোমধ্যে পরীক্ষার কেন্দ্র ডি-সেন্ট্রেলাইজড করে বিভাগীয় শহরে নেওয়ার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো বিভাগীয় শহরের বড় কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে পারে। আবার ওই অঞ্চলের কেন্দ্রে অবস্থিত বড় কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজেও হতে পারে। যেখানে পরীক্ষা নেওয়ার মতো সব ধরনের সুবিধা আছে, সেভাবেই ভাবছে প্রশাসন। তবে, এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

করোনা পরিস্থিতির জন্য এবার ২০০ নম্বরের পরীক্ষা ১০০ নম্বরে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ডিনস কমিটিতে এই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ১০০ নম্বরের মধ্যে ২০ নম্বর রাখা হয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জিপিএ-তে, বাকি ৮০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ৫০ নম্বর থাকবে লিখিত আর ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনি প্রশ্নে (এমসিকিউ)।

লিখিত পরীক্ষার বিষয় উল্লেখ করে অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ‘কোনও শিক্ষার্থী যদি বুঝে উত্তর লিখে, সেক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থীকে পুরো নম্বরই দেওয়া হয়। সেজন্য শিক্ষার্থীদের উচিত পাঠ্যপুস্তকে মনোনিবেশ করা। সেভাবেই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া।’

ঢাকার বাইরের কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। প্রশ্নপত্র মুদ্রণের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে কর্তৃপক্ষ।

এবারের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি অন্যান্য বছরের মতো একই থাকবে। বাড়ানো বা কমানো হবে না বলে জানা গেছে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কেন্দ্রের সিটপ্ল্যান করার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক পরিধান করে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হবে। এরপর কেন্দ্রে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনেই পরীক্ষার্থীদের বসানো হবে।

পরীক্ষার কেন্দ্র ঢাকার বাইরে ডি-সেন্ট্রেলাইজড করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) জানান, এটি করার উদ্দেশ্য হলো দুটি। প্রথমত, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া জরুরি। আরেকটি হলো, অভিভাবকদের বহুদিনের অভিযোগ, পরীক্ষার জন্য অনেক কষ্ট করে তাদের ছেলেমেয়েদের গ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের থাকা-খাবার সমস্যা হয়। আর ডি-সেন্ট্রেলাইজড করা হলে সকালে এসে পরীক্ষা দিয়ে বিকালে চলে যেতে পারবে। প্রথমবারের মতো সফল হতে পারলে আগামীতেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares