শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশুর মাথার চুল কেটে বিকৃত করার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গত রোববার উপজেলার বেতুয়া পশ্চিমপাড়া বিশ্বনবী (সা.) হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. তৈয়ব আলী আকন্দ ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (বড় হুজুর)। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি মো. তৈয়ব আলী আকন্দ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওই দিন দুজনের ন্যাড়া করার মাঝপথে নামাজের সময় হওয়ায় আমি মসজিদে চলে যাই। নামাজের পর ন্যাড়া করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা বিকৃত মাথা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই গ্রামের কিছু দুষ্ট শ্রেণির লোকজন ওই দুই ছাত্রের মাথার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানি করে। গ্রামের কিছু মানুষ আমার ওপর হামলার চেষ্টাও করে। আমাকে না পেয়ে দ্বিতীয় হুজুর আরিফুল ইসলামকে মারধর করেছেন তাঁরা।’

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এইচ এম লুৎফুল কবির বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, এক শিশুর বাবা সখীপুর থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে হামলার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক (দ্বিতীয় হুজুর) আরিফুল ইসলাম আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক অভিভাবক তাঁর শিশুকে নিয়ে আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। শিশুদের বিষয়টি সখীপুর থানার ওসিকে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

source- prothomalo

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Shares