সত্য জানুন, সতর্ক থাকুন

ধরা যাক, আপনার একটু গলা ব্যথা করছে। সঙ্গে সামান্য শুকনো কাশি। শরীরটাও একটু গরম মনে হচ্ছে। অন্য সময় হলে আপনি নিশ্চয়ই একে মৌসুম বদলের সময়কার সমস্যা বলে উড়িয়ে দিতেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এই সময়ে এসব সমস্যায়ও অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। গবেষকেরা বলছেন, অতিরিক্ত চাপ ও উদ্বেগ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়, আত্মবিশ্বাসে ভাঙন ধরায়। কাজেই যত সত্য জানবেন, তত সতর্কতা বাড়বে, আর মোকাবিলাও করতে পারবেন ভালোভাবে।

. সংক্রমণ হলে কি মৃত্যু অনিবার্য?

প্রতিদিন শত শত মৃত্যুর খবর আমাদের ভয় ধরানোর জন্য যথেষ্ট। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিশ্বজুড়ে ৬৬ থেকে ৮০ শতাংশ কোভিড-১৯ রোগী মৃদু বা সামান্য উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর সেরে উঠছেন।

৪ থেকে ৬ শতাংশ মানুষের অবস্থা জটিল হতে পারে, নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে। কাজেই ভালো থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। যদি অসুস্থ বোধ হয়, তবে নিজেকে অন্য সবার কাছ থেকে আলাদা করে ফেলুন।

পুষ্টিকর সুষম খাবার খান। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে বা ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রাখুন। উদ্বেগ কমাতে বই পড়ুন বা গান শুনুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। আর নিয়মিত নিজের উপসর্গগুলো লক্ষ করতে থাকুন।

২. উপকার পাওয়া যায়, এমন কোনো ওষুধ আছে?

নভেল করোনাভাইরাস একটি নতুন ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যকর ওষুধ বা টিকা নেই। তবে বিজ্ঞানীরা এর টিকা আর জুতসই ওষুধ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাই নানা ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ছলনায় ভুলবেন না।

মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা গবেষণা ছাড়া কোনো ওষুধ কার্যকরী কি না, তা জানা যায় না। আর এমন কিছু পাওয়া গেলে নিশ্চয়ই চিকিৎসকেরা আপনার ওপর তা যথাসময়ে প্রয়োগ করবেন।

তাই আগে থেকে এসব নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। বরং নিজেকে আর পরিবারকে নিরাপদ রাখার দিকে নজর দিন, সতর্ক থাকুন।

৩. আমার বয়স কম, চিন্তা কী?

বিশ্বজুড়েই অপেক্ষাকৃত তরুণেরা নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন প্রায়ই মানছেন না। কেননা, তাঁদের ধারণা, এটা বয়স্কদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রোগ।

মনে রাখতে হবে, কেবল ষাটোর্ধ্ব বয়সই নয়, অন্তর্নিহিত কোনো রোগ বা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় জটিলতার কারণে এই ভাইরাস যে কারও জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তা ছাড়া আপনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে প্রিয়জনদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।

৪. আমার কাশিটা কি কোভিড-১৯–এর জন্য?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, শুকনো কাশি, জ্বর, ক্লান্তি আর শ্বাসকষ্ট—এগুলো হলো কোভিড-১৯-এর মূল উপসর্গ। কারও কারও গায়ে ব্যথা, নাক বন্ধ, গলাব্যথা, ডায়রিয়া হতে পারে।

এসব উপসর্গ দেখা দিলে ঘাবড়ে না গিয়ে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজন হলে তিনিই আপনাকে পরীক্ষা করাতে বলবেন। পরীক্ষা হোক আর না হোক, নিজেকে আলাদা রাখুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

৫. মাস্ক পরে বাইরে গেলে কি সমস্যা হবে?

অনেকেই বাড়িতে থাকতে চাইছেন না। ভাবছেন মাস্ক পরে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে একটু বাইরে যাই, বন্ধুদের সঙ্গে মিশি, হাঁটাহাঁটি করি। মনে রাখতে হবে, মাস্ক আপনাকে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারবে না।

ভাইরাসটি বাতাসে ভেসে বেড়ানোর চেয়ে বরং বস্তু বা তলে লেগে থাকে বেশি। বাইরে যাওয়া মানে আপনি নিজের ও পরিবারের জন্য বিপদ ডেকে আনছেন। আপনার এই সামান্য ভুল সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না।

৬. আমার অস্থির লাগছে

নানা উৎস থেকে নানা ধরনের খবর আর পরামর্শে আপনাকে অস্থির, ভীত আর উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে। কাজেই খুব বেশি খবর জানার প্রতি মনোযোগী না হয়ে পরিবারকে সময় দিন। ভালো কিছু করুন। দিনে এক বা দুবার নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে খবর পাওয়ার চেষ্টা করুন।

মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Shares