স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা হবে

শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো খুলে দেওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে নজর দেওয়া কঠিন নয়। তবে সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থীকে বসানো যাবে কিনা সেটি দেখতে হবে। তাই সীমিত পরিসরের কথা বলছি। দশম শ্রেণি, দ্বাদশ শ্রেণিকে আলাদা রুমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসাতে পারি কিনা সেটি দেখছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে যদি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পারি তাহলেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।

তিনি জানান, এসএসসি ও এইচএসসি’র আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হতে পারে।এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন জিনিস পর্যালোচনা করেছি, সীমিত পরিসরে কিছু জিনিস খোলা যায় কি না। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে দেখব পরিস্থিতি অনুকূল হলে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করবো।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও কারিগরির পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার জোর প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অনার্সের শিক্ষার্থীও কম কারিগরিরও কম, তাই সীমিত আকারে তাদের পরীক্ষা নেয়া যায় কিনা তা বিবেচনা করছি।” তিনি বলেন, এবার অন্যান্য বছরের মতো বই উৎসব করা যাবে না। তবে, বিকল্প কিভাবে বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া যায় তা ভাবছে মন্ত্রণালয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেউ দাবি করছেন অটোপাস, কেই বিরোধীতা করছেন, আবার কেউ বলছেন আগের তিন বছরের পরীক্ষার ফল গড় করে নম্বর দিয়ে তাদের ফল প্রকাশ করা হোক। পরীক্ষা ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়ের সাথে আমরা কথা বলেছি। আমরা ইঙ্গিত পাচ্ছি আসছে ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে করোনা প্রকোপ বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শিক্ষামন্ত্রী আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কওমি ছাড়া) বন্ধ রাখার কথা জানান। করোনার বাতিল করা হয়েছে পিইসি, জেএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। নেয়া হবে না বার্ষিক পরীক্ষাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares