ইন্টারভিউতে করা আটটি ‘পরিচিত’ প্রশ্ন

যেকোনো চাকরিতেই নিয়োগের আগে প্রার্থীকে মুখোমুখি হতে হয় ইন্টারভিউ বোর্ডের। আপনি যে পদের জন্য আবেদন করেছেন, তার জন্য আপনি কতটা উপযুক্ত, তা যাচাই করে নেওয়ার জন্যই এ প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিরও কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ইন্টারভিউর মাধ্যমে একই সঙ্গে আপনার ইংরেজি ভাষায় স্পিকিং (Speaking) ও লিসেনিং (Listening)-এ দখল কতটুকু, তা-ও লক্ষ করা হয়।

নিয়মিত চর্চায় ঘাটতির কারণে অনেকেই ইংরেজিতে পড়তে ও লিখতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হলেও ইংরেজিতে কনভারসেশন (Conversation) বা আলাপ চালাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। ইন্টারভিউ যেহেতু একটু ফরমাল প্রক্রিয়া, তাই শব্দচয়ন ও বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে আপনাকে সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে। কারণ, সামনে যিনি বসে আছেন, তিনি আপনার ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের বস, আপনার কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা বন্ধু নন।

আজকের আয়োজনে আমরা জেনে নেব, ইন্টারভিউতে ইংরেজিতে করা আটটি সাধারণ প্রশ্ন এবং সেসবের উত্তর সম্পর্কে। একই সঙ্গে আমরা আলোচনা করব, উত্তর দেওয়ার সময় কী কী বিষয় পরিহার করতে হবে, তা নিয়েও।

১. Tell me about yourself? (আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন)

ইন্টারভিউর শুরুতেই আপনি এই প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে পারেন। প্রশ্নকর্তা চাইলে আরেকটু কায়দা করে, ‘Run me through your CV.’ (আমাকে আপনার সিভি সম্পর্কে ধারণা দিন।) এ প্রশ্নটি করার মূল উদ্দেশ্য আপনার আত্মবিশ্বাস (Confidence), উৎসাহ (Enthusiasm উচ্চারণ– এন-থু-সি-আ-জম) এবং নিজের সম্পর্কে প্যাশন (Passion)-এর মাত্রা দেখে নেওয়া। এই প্রশ্নটির উত্তর আপনি কীভাবে দিচ্ছেন, তা আপনার কমিউনিকেশন স্কিল সম্পর্কেও ধারণা দেবে। ‘I love watching movies.’, ‘I love partying!’, ‘I have so many friends.’ এ ধরনের জবাব পরিহার করে বরং কথা বলুন আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরিবার এবং পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকটা এভাবে :

‘I grew up in France and I studied Accounting. I also worked for an accounting farm for 8 months. I really enjoy solving numbers and maybe this is the reason why I like this job. In my spare (স্পেয়ার) time I like to read.’ অর্থাৎ, আমি ফ্রান্সে বড় হয়েছি এবং সেখানেই অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমার একটি অ্যাকাউন্টিং ফার্মে আট মাস কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংখ্যা নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে এবং এই একই কারণে এই চাকরি করতেও আমি আগ্রহী। অবসর সময়ে আমি বই পড়তে পছন্দ করি।

কথার মাঝে Fumbling (ফাম্বলিং) বা তোতলানো এড়াতে এবং পরবর্তী বাক্য কী হবে, তা গুছিয়ে নিয়ে গ্যাপ ফিলারস ব্যবহারের মাধ্যমে দুটো বাক্যের মাঝে স্বল্প সময়ের বিরতি নিন।

২. What are your strengths (স্ট্রেন্থস)? (কোন বিষয়গুলোতে আপনি দক্ষ?)

আপনি নিজের সম্পর্কে কতটুকু পজিটিভ, তা দেখার জন্য এই প্রশ্ন করা হয়। জবাব দেওয়ার সময় চেষ্টা করুন একটি বাক্যে নিজের গুণ সম্পর্কে সরাসরি না বলে বরং সংক্ষেপে তা আলোচনা করতে। ‘I am a very friendly person.’ এভাবে না বলে, বলুন :

‘My strongest strength is attention to detail. I totally believe in planning and execution (এক্সিকিউশন). In fact, when I was in my college I used to organize my week. Because of my very outgoing nature many people have said that I am quiet approachable (অ্যাপ্রচেবল) so, I believe these are my strengths.’

(আমার সবচেয়ে সেরা গুণ হচ্ছে আমি যেকোনো কাজকে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা করি। আমি পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে সামনে এগোই। কলেজে পড়ার সময়েও আমি আমার সারা সপ্তাহের কাজের তালিকা তৈরি করে রাখতাম এবং তা অনুসরণ করতাম। আমার মিশুক স্বভাবের কারণে অনেকেই এটা মনে করেন যে আমি সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশতে পারি।)

৩. What are your weaknesses (উইকনেসেস)? (আপনার দুর্বল দিকগুলো কী কী?)

এ প্রশ্নের জবাবে সরাসরি ‘I am very impatient (ইম্প্যাশেন্ট).’, ‘I get angry really fast.’ এভাবে নিজের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কথা না বলে বরং একটু ঘুরিয়ে বলুন :

‘I think my weakness is I am way too detail oriented (ওরিয়েন্টেড). I try to accomplish (আকমপ্লিশ) everything and I just want everything to be perfect, but then I realise, I am taking extra time/I am spending too much time. And, maybe that makes me submitting projects late. So I guess this is my weakness.’

(আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে আমার খুঁতখুঁতে স্বভাব। আমি সমস্ত কাজ নিখুঁতভাবে করতে চাই এবং তা করতে গিয়ে প্রয়োজনের থেকে অনেক বেশি সময় ব্যয় করে ফেলি। এ কারণেই আমি নির্ধারিত সময়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রজেক্ট জমা দিতে পারি না। আমার মতে, এটিই আমার দুর্বল দিক।)

প্রশ্নকর্তার এই প্রশ্নটি করার উদ্দেশ্য হলো আপনি আপনার দুর্বলতা সম্পর্কে জানেন কি না এবং আপনি কীভাবে সেটিকে ভালো দিকে কাজে লাগান, তা যাচাই করে দেখা।

৪. Where do you see yourself in five years? (আগামী পাঁচ বছরে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান?)

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার দূরদর্শিতা কতখানি, তা দেখার জন্য প্রশ্নটি করা হয়। অনেকেই এর জবাব দিতে গিয়ে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন, কারণ ভবিষ্যতে কী হবে, তা কেউই জানেন না। একই প্রশ্ন ঘুরিয়ে এভাবেও করা হতে পারে যে, ‘What are your long-term (দীর্ঘমেয়াদি)/ short-term (স্বল্পমেয়াদি) goal?’

‘I would like to be the CEO of this company.’, ‘I would like to own an airline’-এর মতন অবাস্তব উত্তর দিয়ে পরিবেশকে হালকা না করে বরং এভাবে বলুন :

‘Well five years from now, I would like be in the management position. Till then, I would like to gain practical experience and then eventually become a Manager. Of course, I would like to share and learn new things from my team members.’ অর্থাৎ, আগামী পাঁচ বছরে আমি নিজেকে ম্যানেজমেন্ট (ব্যবস্থাপনা) পজিশনে দেখতে চাই। তবে এর মধ্যবর্তী সময়ে আমি বাস্তবিক কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। আমি আমার দলের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করে নতুন নতুন বিষয় শিখতে ও জানতে চাই এবং তাদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে চাই।

৫. What do you know about our company? (আমাদের কোম্পানি সম্পর্কে আপনি কী জানেন?)

এই প্রশ্নটির মুখোমুখি আপনাকে যেকোনো ইন্টারভিউতে হতে হবে। প্রশ্নকর্তা এর মাধ্যমে জানতে চান, এই চাকরির ব্যাপারে আপনি কতটা আগ্রহী এবং আবেদনের আগে আপনি কোম্পানির সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন কি না। কাজেই প্রস্তুত থাকুন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে, ইন্টারনেটে কোম্পানির সম্পর্কে যথেষ্ট রিসার্চ করুন, যাতে করে আপনাকে বিড়ম্বনার সম্মুখীন না হতে হয় এবং বলুন অনেকটা এভাবে :

‘Your company is very well known for the customer service and you also won an award for the best service provider in the country.’ (কাস্টমার সার্ভিসের জন্য আপনাদের কোম্পানি সুপ্রসিদ্ধ এবং দেশের সেরা পণ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনারা পুরস্কারও পেয়েছেন।)

৬. How well do you handle change? (পরিবর্তনের সঙ্গে আপনার মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কতখানি?)

কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অনেকেই এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নিতে পারেন না। প্রশ্নের জবাবে আপনি যে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম, তা বলার সঙ্গে সঙ্গে চাইলে আপনার আগের কর্মক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া এই সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা নিয়েও বলতে পারেন অনেকটা এভাবে :

‘Of course I can handle a change. In my previous company, one of my bosses had to quit and the new boss changed the complete strategy of a project. We managed it with our team efforts and definitely, the result was good. So of course I am very flexible (ফ্লেক্সিবল) and hardworking too.’

(অবশ্যই আমি এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারব। আমার আগের কর্মক্ষেত্রে একজন বস চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরে তাঁর জায়গায় নতুন যিনি যোগ দেন, তিনি এসেই আমাদের চলমান একটি প্রজেক্টের সম্পূর্ণ স্ট্র্যাটেজি বদলে দেন। আমরা তার পরেও নতুন স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ সম্পন্ন করি এবং এর ফলাফলও বেশ ভালো ছিল। কাজেই বলা যেতে পারে, আমি পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম এবং আমি পরিশ্রমী।)

৭. How well do you work under pressure? (আপনি কতখানি কাজের চাপ নিতে সক্ষম?)

অতিরিক্ত কাজের চাপ নিতে আপনি কতখানি উপযুক্ত, তা জানতে এই প্রশ্ন করা হয়। এই প্রশ্নের জবাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলুন :

‘Working under pressure or without pressure works just the same for me.’ অর্থাৎ, কাজের চাপ থাকুক অথবা না থাকুক, দুই ক্ষেত্রেই আপনি মানিয়ে নিতে সক্ষম এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ আপনাকে প্রভাবিত করে না।

৮. How do you handle important decisions? (গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কতটা বিচক্ষণ?)

কর্মক্ষেত্রে অনেক সময়ই আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। সেসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত থাকে কোম্পানির ভবিষ্যৎ এবং লাভ-ক্ষতি। এমন প্রশ্নের জবাবে ঘাবড়ে না গিয়ে বলুন :

‘Handling decisions is definitely considered to be a little difficult. But, I am sure I can do it by relying (রিলায়িং) on my experience. I would also look at the pros and cons, and take some advice from my team members which will help me to take a better decision.’ অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত নেওয়া সব সময়েই একটি কঠিন কাজ। তবে আমি আমার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করব। আমি পুরো বিষয়টির খুঁটিনাটি যাচাই করব এবং আমার টিম মেম্বারদের সঙ্গে আলোচনা করা সাপেক্ষে কোম্পানির জন্য মঙ্গলজনক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

ইন্টারভিউ দেওয়ার সময়ে চেষ্টা করুন এক শব্দে বা এক লাইনে জবাব দেওয়ার বদলে সময় নিয়ে জবাব দিতে। শব্দচয়ন, উচ্চারণের মতন ব্যাপারগুলোর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখুন। রুমে প্রবেশের আগে মোবাইল ফোন সাইলেন্ট করে নিন। চেষ্টা করুন নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই ইন্টারভিউ যেখানে নেওয়া হবে, সেখানে পৌঁছে যেতে। ইন্টারভিউর আগের রাতেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিন। নিজের সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী থাকুন। জয় আপনার সুনিশ্চিত। (copy from: https://bit.ly/2ZkGvcl)

যে ১৬ টি কঠিন প্রশ্ন ইন্টারভিউ এ সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় এবং তার উত্তর

১। আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দুর্বলতা কী?

এটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত ইন্টারভিউ কোশ্চেনগুলোর একটি এবং সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিংও বটে। প্রশ্নের প্রথম অংশটির উত্তর দেয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হলেও পরের অংশটি জীবন্ত ল্যান্ডমাইন, যদি না আপনি সতর্ক হন। কোম্পানি সাধারণত এমন কাউকে খোঁজে যারা তিনটি কাজ ভালভাবে করতে পারে।

১। আয় বাড়ানো

২। টাকা বাঁচানো

৩। সময় বাঁচানো

দুর্বলতার প্রশ্নটির উত্তর দেবার সময় আপনার বৈশিষ্ট্যগত ত্রুটির কথা পরিহার করুন। দুর্বলতাটি আপনার দক্ষতা রিলেটেড হলে ভালো হয়। যেমন উত্তরটি এমন হতে পারে- “আমি যখন শুরু করেছিলাম তখন আমার পাওয়ার পয়েন্ট এ দক্ষতা ছিল না। কিন্তু একটি ভালো বইয়ের সাহায্য নিয়ে আমি আমার দুর্বলতাটি দূর করতে পেরেছি।”

আরেকটি ভালো আইডিয়া হচ্ছে দূর্বলতার ছদ্মবেশে নিজের শক্তির দিকটাই তুলে ধরা। যেমন- “আমি আমার কাজ সম্পর্কে প্যাশনেট এবং যেকোন কাজে আমি নিজের সম্পূর্ণ্টাই দেই। তো মাঝে মধ্যে আমি যখন অন্যদের অলস সময় কাটাতে দেখি, তখন হতাশ হই”।

এটি আরেকটি ল্যান্ডমাইন যেখানে আপনাকে সাবধানে পা রাখতে হবে। এতি আপনার দুর্বলতা খোঁজার আরেকটি উপায়। আপনি যতই আপনার প্রশ্নকারীর সাথে কথা বলতে বলতে সহজ হয়ে যাবেন, খুব ভালো সম্ভাবনা আছে আপনি অসাবধান হয়ে পড়বেন। খেয়াল রাখুন। এর উত্তরটি হতে পারে, “মাঝেমধ্যে ইন্টারভিউ সম্পর্কিত দুঃস্বপ্ন ছাড়া খুব কম সময়ই আমার ঘুমোতে কস্ট হয়।আমি সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্ট এ বিশ্বাস করি এবং পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে নিজেকে রিচার্জ করে নিই। আমি জানি আমি ক্লান্ত থাকলে হত কাজে আমার শতভাগ দিতে পারব না।

৩। আপনার আগের কোম্পানিতে আপনি কীভাবে উন্নতি করেছিলেন?

ভালো প্রশ্ন যদি প্রশ্নকর্তা একজন প্রোমোটেবল ক্যান্ডিডেট খুঁজে থাকেন। এখানে আপনি বিচ্ছিন্নভাবে আপনার পার্সোনাল এবং বিজনেস ট্রেইটগুলো তুলে ধরতে পারেন। আপনার আগের কোম্পানির প্রশংসা করুন। যেমন- “ট্রেনিং টি শিক্ষণীয় ছিল” কিংবা “আমি বেশ কিছু অসাধারণ মেন্টর পেয়েছিলাম যারা আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন।” ধাপে ধাপে টাইটেল ধরে আপনার কঠোর পরিশ্রমের এবং মেধার ফসল হিসেবেই যে প্রমোশনগুলো পেয়েছেন তা কথায় কথায় তুলে ধরুন। প্রমোশন যদি নাও পেয়ে থাকেন, আগের চাকরিতে কী কী বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো অতিক্রম করেছেন তার গল্প করুন।

৪। যদি আপনি রঙ হতেন, কোন রঙ হতেন?

আমাকে একবার বেশ ভালো একটি প্রতিষ্ঠান এর ইন্টারভিউতে এই প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আমি হেসে গর্বিতভাবে রংধনুর রঙ বলে উত্তর দিয়েছিলাম। প্রত্যেকের মধ্যে সাধারণত চার ধরনের বেসিক পার্সোনালিটি টাইপের যেকোন একটি দেখা যায়। কিন্তু আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী চিনতে এবং মানিয়ে নিতে পারি। কখনো আমার লাল হবার প্রয়োজন হয়, কখনওবা সবুজ, মাঝেমধ্যে সাদা কিংবা কালো এমনকি গোলাপিও। প্রশ্নকর্তা হেসে ফেলেছিলেন এবং বলেছিলেন “খুব ভালো উত্তর”।

৫। আপনি  কতদিন আমাদের কোম্পানির সাথে থাকতে চান?

এটি একটি ভালো প্রশ্ন। এর মানে হচ্ছে প্রশ্নকর্তা আপনাকে জবটি দেবার কথা ভাবছেন। কিন্তু এটি ট্রিকি হতে পারে। আপনি ভাবতে পারেন প্রশ্নকর্তা ভাবছেন আপনি অল্পসময় পরই চলে যাবেন কিনা।  টোপটি গিলবেন না। বল প্রশ্নকর্তার কোর্টে ফেরত পাঠান এভাবে উত্তর দিয়ে, “আমি এই কোম্পানিতে খুব ভাল ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে আশাবাদী। আমি পথনির্দেশনায় ভালো সাড়া দেই এবং সবসময়ই নতুন কিছু শিখতে চাই। আমি সাফল্য বলতে বোঝাই নতুন সুযোগ এলে তার জন্যে প্রস্তুত থাকা। আপনার কি মনে হয় কতদিন আমি এখানে সে চ্যালেঞ্জ এর সম্মুখীন হব?”

৬। আপনি কীভাবে মেজর প্রজেক্ট এর কাজগুলো করেন?

আপনি যে একজন সফল বিজনেস ম্যানেজার যে কিনা সমস্যা আইডেন্টিফাই এবং সলভ করতে পারেন তা দেখানোর এটি সুবর্ণ সুযোগ। “আমি কার্যকর স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং এ বিশ্বাসী যা সম্মুখী (অন্য কথায় আমার কী কী রিসোর্স এর প্রয়োজন হবে?) এবং পশ্চাদমুখী চিন্তা (যেমন, যদি ডেডলাইন শেষ এর দিকে থাকে তাহলে সফল আউটকাম পেতে হলে কোন কোন সময়ে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে?) দুটোর সমন্বয়েই গঠিত।

৭। আপনি কীভাবে স্ট্রেস সামলান?

এটির উত্তর দেয়ার সবচেয়ে ভালো পন্থা হচ্ছে প্রতিহত করা।“ আমি সঠিক সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্ট্রেস পরিহার করি। প্রত্যেকটা দিনে অনেকগুলো করে ঘন্টা আছে। আমি কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণ করার মাধ্যমে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করি। আমি ব্যায়াম করি, ঠিকমত খাই, এবং পর্যাপ্ত ঘুমাই। আমার মনে হয় এতেই স্ট্রেস দূরীভূত হয়।

৮। আপনার চাকরির প্রথম ৯০ দিনে আপনি কী করবেন?

এটি প্রশ্নকর্তার দৃস্টিতে ফেয়ার প্রশ্ন হলেও চাকরিপ্রার্থীর জন্যে আনফেয়ার। আপনি সাধারণভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন যে, “আমি কোম্পানির নিকটবর্তী লক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে আমার লক্ষ্য সেট করব। তারপর আমি আমার সময় সেই লক্ষ্যগুল অর্জনের জন্যে ব্যয় করব। আপনাদের কোম্পানির জন্যে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এখন কী এবং আপনারা কি কোন ট্রেনিং প্রোগ্রাম অফার করেন?”

Content copy from:
http://youthcarnival.org/bn/most-frequently-asked-tricky-interview-questions/

৬৫ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট

নিয়মিত চাকরির আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

This image has an empty alt attribute; its file name is imgpsh_fullsize_anim-1.png
This image has an empty alt attribute; its file name is url-2.jpg

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। নিম্নোক্ত শূন্য পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রকৃত নাগরিকের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা যাচ্ছে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন।

পদের নাম

সিনিয়র সহকারী পরিচালক, প্রশিক্ষক, সহকারী প্রোগ্রামার, সহকারী পরিচালক, সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, ব্যক্তিগত  সহকারী, হিসাবরক্ষক, অডিটর, ফটোগ্রাফার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর, ল্যাব সহকারী, টেকনিশিয়ান, গাড়িচালক।

পদসংখ্যা

২০টি পদে মোট ৬৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

যোগ্যতা

যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম যেকোনো বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরসহ উচ্চ মাধ্যমিক/ মাধ্যমিক ও অষ্টম শ্রেণি পাস প্রার্থীরা বিভিন্ন পদের জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রার্থীর কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং মাইক্রোসফট অফিসে দক্ষতা প্রয়োজন। কিছু কিছু পদের জন্য এক থেকে পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদের জন্য অনূর্ধ্ব বয়স ৩৫ বছর এবং বাকি অন্য সব পদের জন্য অনূর্ধ্ব ৩০ বছর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

বেতন-ভাতা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর গ্রেড ৬, ৯, ১০, ১২, ১৪ ও ১৬  অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।

আবেদন পদ্ধতি

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের ঠিকানা (http://birtan.teletalk.com.bd)। আবেদনের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিতে।

আবেদনের শেষ তারিখ

অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ৯ মে, ২০১৯ সকাল ১০টায় এবং শেষ সময় আগামী ৩০ মে, ২০১৯ বিকেল ৫টা।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন ৭ মে, ২০১৯।

বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিতে…

Searches related to  বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট

নিয়োগ দেবে ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নিয়োগ ২০১৯

বিজ্ঞপ্তি – বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)-

Bdjobs20-এ প্রকাশিত যেকোনো চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। প্রকাশিত যেকোনো ধরণের চাকরি তথ্য বা নিয়োগ-প্রক্রিয়ার দায়-দায়িত্ব স্ব-স্ব নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের। এ সংক্রান্ত কোনো অসত্য বা অসম্পূর্ন তথ্য অথবা আর্থিক লেনদেনের দায় Bdjobs20-এর নয়।। চাকরিপ্রার্থীদের এই ব্যাপারে সতর্ক হবার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

৪৭৫ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

নিয়মিত চাকরির আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

৪৭৫ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোয় ‘কাজ নাই মজুরি নাই’ এ শর্তে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ‘বিল্ডিং সহকারী’ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। মোট ৪৭৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহ ও যোগ্যতা থাকলে আপনিও আবেদন করতে পারেন।

পদের নাম

বিল্ডিং সহকারী

পদসংখ্যা

মোট ৪৭৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

যোগ্যতা

যেকোনো সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক বা সমমান ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন। তবে প্রার্থীর উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০-এর মধ্যে ন্যূনতম ২.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। সঙ্গে কম্পিউটার ও মাইক্রোসফট অফিসে কাজের দক্ষতা থাকতে হবে। আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স ৩০ এপ্রিল, ২০১৯ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

বেতন-ভাতা

দৈনিক ৬০০ টাকা হারে মজুরি দেওয়া হবে।

আবেদন পদ্ধতি

প্রার্থীদের বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত আবেদন ফরম পূরণ করে ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ঠিকানায় পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ওয়েবসাইট (www.reb.gov.bd) । আবেদনের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিতে

আবেদনের শেষ তারিখ

আবেদনের শেষ তারিখ ২৭ মে, ২০১৯।

সূত্র : ইত্তেফাক, ৬ মে, ২০১৯।

বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিতে…

Searches related to বাংলাদেশ পল্লী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৯

পল্লী বিদ্যুৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৯

পল্লী বিদ্যুৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2019

পল্লী বিদ্যুৎ নিয়োগ ২০১৯

পল্লী বিদ্যুৎ নিয়োগ 2019

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৮

পল্লী বিদ্যুৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2018

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৯

পল্লী বিদ্যুৎ লাইনম্যান নিয়োগ

Bdjobs20-এ প্রকাশিত যেকোনো চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। প্রকাশিত যেকোনো ধরণের চাকরি তথ্য বা নিয়োগ-প্রক্রিয়ার দায়-দায়িত্ব স্ব-স্ব নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের। এ সংক্রান্ত কোনো অসত্য বা অসম্পূর্ন তথ্য অথবা আর্থিক লেনদেনের দায় Bdjobs20-এর নয়।। চাকরিপ্রার্থীদের এই ব্যাপারে সতর্ক হবার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শিশুর পেটের চারকেজি টিউমারের ভেতর আরেক শিশু!

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের বাবুল রায়ের ১২ বছরের মেয়ে বিথিকা রায়। স্থানীয় মলানপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সে।

গত দশদিন আগে হঠাৎ করেই বিথিকার শারীরিক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। তার পেট হঠাৎ করেই ফুলতে থাকে। এতে ঘাবড়ে যায় পরিবারের লোকজন। সবার ধারণা হয় সে হয়তো কারও দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।

ভয় থেকেই ছুটে যায় ডাক্তারের কাছে। তবে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে না গিয়ে যায় রংপুরের এক ডাক্তারের কাছে। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান বিথিকার পেটে বড় আকারের টিউমার রয়েছে। যা জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা প্রয়োজন।

এদিকে পেশায় দিনমজুর বাবুল রায় রংপুরে অপারেশন করার সামর্থ্য না থাকায় মেয়েকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও হাসান এক্স-রে ক্লিনিকে ভর্তি করে ডা. মো. নুরুজ্জামান জুয়েলের শরণাপন্ন হন। ডা. জুয়েল ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন হওয়ায় প্রথমে রাজী হননি। পরে বাবুলের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।

শুক্রবার বিকেলে অপারেশন করে দেখা যায় শিশুটির পেটে প্রায় চার কেজি ওজনের টিউমার রয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে টিউমারটি কেটে তার চোখ ছানাবড়া। টিউমারের ভেতরে আরেক শিশুর বসবাস। সেখানে শরীরের হাত, কলিজাসহ নানা অংশ বিদ্যমান।

এ ব্যাপারে ডা. মো. নুরুজ্জামান জুয়েল বলেন, মেডিকেল সাইন্সে এটাকে বলে “Fetus in feto” অর্থাৎ বাচ্চার পেটের ভেতরে বাচ্চা। জন্মগতভাবে বিথিকা জমজ। কিন্তু কোনো কারণবশত আরেক শিশু পৃথিবীর মুখ দেখতে পায়নি। এটা বিথিকার জন্মের সময় থেকে তার পেটে থেকে যায়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো। আশা করা যায় আর কোনো ঝুঁকি নেই।

সূত্রঃ-jagonews24

শরীরে স্যালাইন লাগিয়ে রোগী দেখছেন অসুস্থ ডাক্তার

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

নিজের অসুস্থ শরীরে স্যালাইন লাগিয়ে রোগী দেখছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী আব্দুল্লাহ মারুফ।

অসুস্থ শরীরে নিজের এক হাতে স্যালাইন লাগিয়ে অন্য হাত দিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে অসুস্থ শরীরে রোগীকে সেবা দেয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই তার এসব ছবি শেয়ার করে প্রশংসা করেছেন।

এসব ছবিতে দেখা যায়, ডাক্তারের মাথার ওপরে স্যালাইন ঝুলছে। পাশাপাশি ডাক্তার আর রোগী বসে আছেন। ইনফিউশন সেটটি রোগীর হাতে নয় শেষ হয়েছে ডাক্তারের হাতে। অর্থাৎ নিজের অসুস্থ শরীরে স্যালাইন লাগিয়ে রোগী দেখছেন মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী আব্দুল্লাহ মারুফ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব ছবি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। সেখানে ৩৬তম বিসিএসের মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী আব্দুল্লাহ মারুফ বৈকালিক দায়িত্ব পালন করছেন। বাইরের হোটেলের খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি। ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. কাজী আব্দুল্লাহ। কিন্তু ওই দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালিক দায়িত্ব থাকায় নিজের অসুস্থ শরীরে স্যালাইন লাগিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন ডা. আব্দুল্লাহ। পরে তার এসব ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

‘বাংলাদেশ মেডিকেল সংবাদ’ ফেসবুক পেজে ছবিগুলো শেয়ার করে একজন লিখেছেন, ‘এ ধরনের ছবি হয়তো শুধুমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব। অনেকে এই ডাক্তার সাহেবকে বাহবা দিলেও এটা আমাদের হেলথ সেক্টরের দৈন্যতার একটা চিত্র। এমন অসুস্থ অবস্থায় তাকে রিপ্লেস করার মতো অন্য কোনো ডাক্তার নেই। অগত্যা এক হাতে স্যালাইন আর অন্য হাতে কলম।’

ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইউএইচএফপিও ছাড়া ১১ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। আছেন তিনজন। একজন ফ্র্যাকচার হয়ে ছুটিতে, একজন আরএমওএর দায়িত্ব পালন করছেন। আরেকজন আমাদের এই বন্ধু। সকালের ডিউটি বাদেও সপ্তাহে কমপক্ষে চারদিন ইমার্জেন্সি দায়িত্ব পালন করতে হয়। ইএমওএর কোনো পোস্ট অর্গানোগ্রামেই নেই। শিশু কনসালট্যান্ট একজন আছেন, উনি আউটডোর রোগী দেখেন। সুইপারের সংখ্যা অপ্রতুল। রোগীর সিরিয়াল মেইনটেইনের মতো পর্যাপ্ত এমএলএসএস পর্যন্ত নেই। নিজেই টিকিট জমা নিয়ে নাম ডেকে ডেকে রোগী দেখতে হয়।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘যখন উপজেলায় পোস্টেড ছিলাম, তখন বাইরের হোটেলে খেতে হতো। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলে বলতো স্যার আপনারাও এখানে খান। আপনাদের বাবুর্চি নেই? হেসে বলতাম, থাকার জায়গার-ই ভালো বন্দোবস্ত নেই, বাবুর্চি তো বিলাসিতা।’

ওই পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, ‘ইউএইচএফপিওদের গাড়ি দেয়া হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে সেবার মান বাড়বে। কিন্তু যারা সরাসরি সেবা পৌঁছাবেন সেই মেডিকেল অফিসারদের খাবার ব্যবস্থাও নেই। রাস্তার পাশে ‘হোটেল আল ছালা দিয়া ঢাকা’তে তিন বেলা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়। ২৪ ঘণ্টা যারা সার্ভিস দেয় তাদের খাবার ব্যবস্থা হসপিটাল কর্তৃপক্ষ কেন করবে না? তাদের কেন অলিগলির হোটেলে খেয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় অসুস্থ হতে হবে। দুইজন ডাক্তার যে ১১ জনের দায়িত্ব পালন করছেন এটার মূল্যায়ন কীভাবে হবে? কোনোভাবেই তো এর কম্পেনসেশন দেয়া সম্ভব বলে মনে করি না। বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা হিসেবে দিলেও না। ডাক্তাররা এত আশা নিয়ে সরকারি চাকরিতে এসেও কেন তথাকথিত গ্রামগুলোতে থাকতে চান না এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কি আর দরকার আছে?’

সূত্রঃ-jagonews24

এক পা সম্বল করেই ফজলুরের স্বপ্নযাত্রা

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চর গোপালপুর গ্রামের সাহেব আলীর সংসারে জন্ম নেয় ফজলুর রহমান। কিন্তু শিশুটিকে দেখে সবাই অবাক। তার দুটি হাত ও একটি পা নেই। তবু বাবা-মায়ের আদরে বড় হতে থাকে সে। গতকাল সোমবার সেই বাড়িতেই আবার আনন্দের ঢেউ। সেই দুই হাত ও এক পা ছাড়া ফজলুর রহমান এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। সে উপজলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৩ দশমিক ৫৬ পেয়েছে।


এক পায়ে ভর করে ফজলুর প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত। দুই হাত আর এক পাবিহীন জীবনে সে সৃষ্টি করেছে অনন্য এক নজির। ফলাফল প্রকাশের পর ফজলুর রহমান বলে, ‘পড়ালেখার জন্য আমি অনেক কষ্ট করছি। পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারলে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়ে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার আশা করি।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে সে আরও বলে, ‘বোন বই বহন করে নিয়ে যেত আর আমি লাফিয়ে লাফিয়ে চলতাম। যেদিন বোন স্কুলে যেত না সেদিন আমারও স্কুলে যাওয়া হতো না। বৃষ্টি হলেও একই অবস্থা হতো। আমার সব কাজ মা করে দেন। মা আর বোনের সহায়তায় এই ফল করতে পেরেছি।’



ফজলুর রহমানের বাবা সাহেব আলী বলেন, ছেলের ফলাফলে তাঁর মন ভরে গেছে। অভাব-অনটনের সংসার, ঠিকমতো বইও কিনে দিতে পারেননি। মা সারা খাতুন বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী লেখাপড়া জানি না। ছেলেটার ভীষণ ইচ্ছাশক্তির জোর। ছোট মেয়ে আসমা ফজলুকে লেখাপড়া করায়। সঙ্গে করে স্কুলে নিয়ে যায়। ও যত দিন পারে, আমরা পড়ালেখা করাব।’ তবে প্রতিবন্ধী ছেলেটার দিকে সবাই একটু তাকালে তাঁদের উপকার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিটুয়ানী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ভীষণ পরিশ্রমী ফজলু। যার প্রমাণ তার পড়ালেখায় পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, ফজলুর রহমানকে সহায়তা করা গেলে একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সূত্রঃ- প্রথম আলো

দৃষ্টিহীন SSC পরীক্ষার্থীদের সাফল্য

জন্মের পরেই ধরা পড়ে মোহাম্মদ আবিদুর রহমানের দৃষ্টিশক্তি কম। ক্রমেই সেই দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে উঠে। কিন্তু সেটি তাঁকে থামাতে পারেনি। তাই বয়স বাড়তেই স্কুলে যাওয়া-আসা শুরু করে সে। কিন্তু চোখে দেখত না বলে পরীক্ষার হলে গিয়ে লিখতে পারত না। ফলে কয়েক বছরের মাথায় বন্ধ যায় পড়ালেখা।
ঘরে বসে কান্নাকাটি করে দিন কাটছিল তার।

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

এর মধ্যেই আবিদুরের এক মামা সন্ধান পান নগরের মুরাদপুরের সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের। এরপর ২০১১ সালে সেখানে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয় তাকে। যেন নতুন জীবন পায়। নিজের চেষ্টা আর শিক্ষকদের সহায়তায় চলতে থাকে পড়াশোনা।

সেই অদম্য সংগ্রামের ফল সে পেয়েছে। গতকাল সোমবার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ–৪ দশমিক ৫৬ পেয়ে পাস করেছে সে। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায়ও সে এ গ্রেডে পাস করেছিল।

শুধু আবিদুর নয়, শিক্ষা উপকরণ, পরীক্ষাপদ্ধতি, শ্রুতলেখক সমস্যাসহ নানা বাধা ডিঙিয়ে এ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দেওয়া আট দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীই সাফল্যের সঙ্গে পাস করেছে। তাদের মধ্যে এ গ্রেড পেয়ে পাস করেছে ছয়জন। 

বাকি দুজন এ মাইনাস গ্রেড পেয়ে পাস করেছে। শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের স্বীকৃতি না থাকায় তারা চট্টগ্রাম সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থী হিসেবে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। তাই তারা সবাই হামজারবাগ রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা দেয়।

নিজের ফলাফলে অনেক খুশি আবিদুর। সে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলে, একসময় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মন খারাপ হয়েছিল। আজ এসএসসি পাস করতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। এখন তার স্বপ্ন আরও বড় লক্ষ্যের দিকে। ভর্তি হতে চায় চট্টগ্রামের কোনো এক সরকারি কলেজে। এরপর এইচএসসি পাস করে যেতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়ে।

গতকাল দুপুরে সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রাবাসে গিয়ে পাওয়া যায় মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানকে। সে ৪ দশমিক ২৮ পেয়ে এবার এসএসসি পাস করেছে। ছাত্রাবাসের অন্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছিল সে।

হাসানুজ্জামান প্রথম আলোকে বলে, নিজের প্রচেষ্টা, বাবা-মা আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় এত দূর আসা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি শ্রুতলেখকদেরও ধন্যবাদ দেয় সে।

এ ছাড়া অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাহি জি চৌধুরী জিপিএ–৪ দশমিক ৩৯, আনিকা তাবাস্সুম ৪ দশমিক ৪ দশমিক ২২, মেহেরুন্নেসা ৪ দশমিক ০৬, রিফা আক্তার ৪ দশমিক ০০, ফাতেমা আক্তার ৩ দশমিক ৯৪ ও শিল্পী আক্তার ৩ দশমিক ৮৩ পেয়ে পাস করেছে।

শিক্ষার্থীদের সাফল্যে শিক্ষকেরাও খুশি। গতকাল দুপুরে সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওদের সন্তোষজনক ফলাফলে তাঁরা খুশি। যদি আরও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়, তাহলে এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও ভালো জায়গায় যাবে।

সূত্রঃ- প্রথম আলো

ছেলেদের পেছনে ফেলে আরও এগিয়ে মেয়েরা

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পায়নি সামিয়া, পেয়েছে জিপিএ–৪.৭২। তবু মায়ের খুশির কমতি নেই। ফলাফল শুনে মেয়ের কপালে চুমু এঁকে দেন মা। গতকাল রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ফল প্রকাশের পর। ছবি: হাসান রাজা

• এসএসসিতে গড় পাসের হার ৮২.৮০
• পাসের হার ৩.৪০ শতাংশ বেড়েছে 
• এবারের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ কমেছে 
• জিপিএ-৫ কমেছে ৮ হাজার ২৮৯ 
• দুই সূচকেই মেয়েরা এগিয়ে আছে

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের অংশগ্রহণ ও সফলতার চিত্র দৃশ্যমান। এর মধ্যে বড় অগ্রগতি মাধ্যমিক স্তরে, যেখানে প্রায় প্রতিবছরই ছাত্রীরা নিজেদের গড়া রেকর্ড অতিক্রম করছে। এ বছরও মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ ৫—দুই সূচকেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এমনকি বিজ্ঞানশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে।

এবার ফলাফলের ভালো–মন্দ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে গণিত। যেসব বোর্ডে পাসের হার কমেছে বা পিছিয়ে আছে, সেগুলোর শিক্ষার্থীরা গণিতে খারাপ করেছে। যদিও আরেক ‘কঠিন’ বিষয় ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে। সব বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৯০ শতাংশের ওপরে। এসএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন অভিভাবকেরা ছেলে–মেয়েকে আলাদাভাবে দেখেন না। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের ফলে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে বাবা-মা ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। তবে তাঁদের মতে, প্রান্তিক পর্যায়ে এখনো মেয়েরা পিছিয়ে। আর গণিতের বড় সমস্যা হলো মানসম্মত পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই।

৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার গতবারের চেয়ে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫২ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৪ লাখ ৩ হাজার ১৫৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪ হাজার ৫৫৬ জন, যা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৪৫ জন। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার বাড়লেও ফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ হাজার ২৮৯।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এই তিন পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে থাকায় ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুঠোফোনে কথা বলে ও বাণী দিয়ে পাস করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। আর যারা পাস করতে পারেনি, তাদের সাহস দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর প্রমুখ।

ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার এসএসসিতে ছাত্রীদের পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর ছাত্রদের পাসের হার ৮২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। ৪৮ হাজার ৫৯১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর ছাত্ররা পেয়েছে ৪৫ হাজার ৯৬৫ জন। এ বছর ৮ বোর্ডে ছাত্রদের চেয়ে ২ হাজার ৬২৬ জন ছাত্রী বেশি জিপিএ-৫ পেল।

কেবল ৮ বোর্ডেই নয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়েও ছাত্রীরা পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, এখন সব মা–বাবাই চান তাঁর মেয়েটিও (যদি থাকে) পড়াশোনা করুক। এখানে উপবৃত্তি বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হওয়ায় শিক্ষার ওপরের স্তরেও মেয়েরা ভালো করছে। কিন্তু তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, শহরকেন্দ্রিক সচেতনতা বেশি বাড়লেও প্রান্তিক এলাকায় এখনো মেয়েরা পিছিয়ে আছে। মাধ্যমিকে মেয়েদের ঝরে পড়ার হারও বেশি, যাদের বেশির ভাগই প্রত্যন্ত এলাকার। এ জন্য ওই সব এলাকায় বিশেষ নজর দিতে হবে।

এবার বিজ্ঞানে মোট পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। এর মধ্যে ছাত্রী ছিল প্রায় আড়াই লাখ। কয়েক বছরে বিজ্ঞানে ছাত্রীদের পড়ার আগ্রহ বেড়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব তপন কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মূল্যায়ন হলো, আগে মেয়েরা বিজ্ঞান শাখায় তুলনামূলক কম আসত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই শাখায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। আর জিপিএ-৫ সাধারণত বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাই বেশি পায়। ফলে মেয়েদের জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। 

বিজ্ঞানে পাস ও জিপিএ–৫ বেশি
৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা মিলিয়ে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে ৯১ হাজার ৩৩ জনই বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ২৭ শতাংশই বিজ্ঞানের। ব্যবসায় শিক্ষায় ২ হাজার ৮৭ জন এবং মানবিক শাখা থেকে ১ হাজার ৪৩৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পাসের হারেও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। এসএসসিতে গড় পাসের হার যেখানে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ; সেখানে বিজ্ঞানে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। মানবিকে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩২ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৮৩ শতাংশ।

গণিত নিয়ামক
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফলাফল ভালো–মন্দ নির্ধারণে গণিতই বড় ভূমিকা রেখেছে। যেমন সব বোর্ডে পাসের হার বাড়লেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, এই বোর্ডে এবার গণিতে পাসের হার অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ কম। গণিতে এবার এই বোর্ডে ৮৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। যেখানে অন্য বিষয়ে পাসের হার ৯১ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত। গতবার এই বোর্ডে গণিতে পাসের হার ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ।

আবার পাসের হারে তলানিতে থাকা সিলেট শিক্ষা বোর্ডে গণিতে পাসের হার মাত্র ৭৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে গণিতে পাসের হার প্রায় ৮২ শতাংশ। এই বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা ৮ বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। পিছিয়ে থাকা চট্টগ্রাম বোর্ডেও গণিতে পাসের হার কম।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা মূল্যায়ন করে দেখেছেন, মূলত গণিতে পাসের হার গতবারের চেয়ে কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ঢাকা বোর্ডের পাসের হারের ওপর। সব বোর্ডের গড় পাসের ওপরও প্রভাব ফেলেছ গণিতের ফল।

পিছিয়ে মফস্বল
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঢাকাসহ ১৭টি জেলার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। জেলাভিত্তিক ফলাফল মূল্যায়নে দেখা গেছে, মফস্বলের জেলাগুলোর শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে। বিপরীতে ঢাকা মহানগরী, ঢাকা জেলা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে। যেমন ঢাকা মহানগরীতে পরীক্ষা দিয়েছিল ৯৩ হাজার ৩০৭ জন। তাদের মধ্যে ৮৮ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪০১ জন। অথচ ১৭ জেলায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ৬৮৭ জন।

অন্যদিকে মাদারীপুরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৫ জন। ফরিদপুরে পাসের হার ৬৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০৬ শতাংশ। অথচ ঢাকা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সূত্রমতে, অন্য বোর্ডের চিত্রটিও কমবেশি একই ধরনের।

বিদেশের কেন্দ্রে পাস ৯২ শতাংশ
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিদেশের ৮টি কেন্দ্রে গড় পাসের হার ৯১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এসব কেন্দ্রে অংশ নিয়েছিল ৪২৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৩৮৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬ জন।

কেন্দ্রগুলো হলো জেদ্দার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, রিয়াদের বাংলাদেশ এমবাসি স্কুল, ত্রিপোলির বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুল, দোহার বাংলাদেশ মাশহুর-উল-হক মেমোরিয়াল হাইস্কুল, আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল, বাহরাইনের বাংলাদেশ স্কুল, রাস আল খাইমার বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল এবং ওমানের সাহামের বাংলাদেশ স্কুল।

সেরা রাজশাহী, পিছিয়ে সিলেট
৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফল তুলনা করে দেখা যায়, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এবারও পাসের হারে এগিয়ে। এই বোর্ডে পাসের হার গতবারের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পাসের হারে গতবারও এই বোর্ড এগিয়ে ছিল।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, রাজশাহী বোর্ড ধারাবাহিকভাবেই ভালো করছে। তাঁর মূল্যায়ন হলো, তাঁদের বোর্ডের অধীন রাজশাহী জেলা ছাড়াও বগুড়া ও পাবনার শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। তদারক ব্যবস্থাটা জোরদার রাখছেন।

আবার সিলেট বোর্ড গতবারের মতোই সবচেয়ে পিছিয়ে। এসএসসিতে গড় পাসের হার যেখানে প্রায় ৮৩ শতাংশ, সেখানে সিলেটে এই হার ৭০ দশমিক ৮৩। অবশ্য ঢাকা বাদে বাকি সব বোর্ডেই গতবারের চেয়ে পাসের হার কিছু বেড়েছে।

এবার ১০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। তবে ২ হাজার ৫৮৩টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে।

সূত্রঃ- প্রথম আলো