এবারও বরিশালে সেরা মেয়েরা

এ বছরও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের থেকে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ নিয়ে পরপর তিন বছর বোর্ডটিতে পাসের হার ও ভালো ফলে এগিয়ে থাকল মেয়েরা।

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

এ ছাড়া, গত বছরের তুলনায় এবার এ শিক্ষা বোর্ডে মোট পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাটাও বেড়েছে। এ বছর এই শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা গতবারের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩০ ভাগ বেশি। অন্যদিকে গতবারের থেকে এবার ৭২৭টি জিপিএ-৫ বেড়েছে। ফলে এবার জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ জন।

সোমবার দুপর ১২টায় এসএসসি ও সমমানের ফলাফল ঘোষণা করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আনোয়ারুল আ‌জম। তিনি বলেন, এ বছর ওই বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৬ হাজার ৬৬১ পরীক্ষার্থী।

এর মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ৫৯৯ জন এবং ছাত্রী ৫৪ হাজার ২২ জন। মোট পাস করেছে ৮২ হাজার ৫৩৫ জন, যার মধ্যে ছাত্র ৩৯ হাজার ১৩৮ জন ও ছাত্রী ৪৩ হাজার ৫৩৫ জন। এ ছাড়াও বিভাগটিতে পা‌সের হারে এগিয়ে রয়েছে পি‌রোজপুর জেলা।

এ বছরে ছেলেদের পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪১ ও মেয়েদের পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। পাশাপাশি মেয়েদের ২ হাজার ২১৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলেরা পেয়েছে ১ হাজার ৯৭২ জন। বিষয় ভিত্তিতেও পাসের হারেও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

সূত্রঃ- প্রথম আলো

এক পা সম্বল করেই ফজলুরের স্বপ্নযাত্রা

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চর গোপালপুর গ্রামের সাহেব আলীর সংসারে জন্ম নেয় ফজলুর রহমান। কিন্তু শিশুটিকে দেখে সবাই অবাক। তার দুটি হাত ও একটি পা নেই। তবু বাবা-মায়ের আদরে বড় হতে থাকে সে। গতকাল সোমবার সেই বাড়িতেই আবার আনন্দের ঢেউ। সেই দুই হাত ও এক পা ছাড়া ফজলুর রহমান এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। সে উপজলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৩ দশমিক ৫৬ পেয়েছে।


এক পায়ে ভর করে ফজলুর প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত। দুই হাত আর এক পাবিহীন জীবনে সে সৃষ্টি করেছে অনন্য এক নজির। ফলাফল প্রকাশের পর ফজলুর রহমান বলে, ‘পড়ালেখার জন্য আমি অনেক কষ্ট করছি। পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারলে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়ে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার আশা করি।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে সে আরও বলে, ‘বোন বই বহন করে নিয়ে যেত আর আমি লাফিয়ে লাফিয়ে চলতাম। যেদিন বোন স্কুলে যেত না সেদিন আমারও স্কুলে যাওয়া হতো না। বৃষ্টি হলেও একই অবস্থা হতো। আমার সব কাজ মা করে দেন। মা আর বোনের সহায়তায় এই ফল করতে পেরেছি।’



ফজলুর রহমানের বাবা সাহেব আলী বলেন, ছেলের ফলাফলে তাঁর মন ভরে গেছে। অভাব-অনটনের সংসার, ঠিকমতো বইও কিনে দিতে পারেননি। মা সারা খাতুন বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী লেখাপড়া জানি না। ছেলেটার ভীষণ ইচ্ছাশক্তির জোর। ছোট মেয়ে আসমা ফজলুকে লেখাপড়া করায়। সঙ্গে করে স্কুলে নিয়ে যায়। ও যত দিন পারে, আমরা পড়ালেখা করাব।’ তবে প্রতিবন্ধী ছেলেটার দিকে সবাই একটু তাকালে তাঁদের উপকার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিটুয়ানী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ভীষণ পরিশ্রমী ফজলু। যার প্রমাণ তার পড়ালেখায় পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, ফজলুর রহমানকে সহায়তা করা গেলে একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সূত্রঃ- প্রথম আলো

দৃষ্টিহীন SSC পরীক্ষার্থীদের সাফল্য

জন্মের পরেই ধরা পড়ে মোহাম্মদ আবিদুর রহমানের দৃষ্টিশক্তি কম। ক্রমেই সেই দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে উঠে। কিন্তু সেটি তাঁকে থামাতে পারেনি। তাই বয়স বাড়তেই স্কুলে যাওয়া-আসা শুরু করে সে। কিন্তু চোখে দেখত না বলে পরীক্ষার হলে গিয়ে লিখতে পারত না। ফলে কয়েক বছরের মাথায় বন্ধ যায় পড়ালেখা।
ঘরে বসে কান্নাকাটি করে দিন কাটছিল তার।

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

এর মধ্যেই আবিদুরের এক মামা সন্ধান পান নগরের মুরাদপুরের সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের। এরপর ২০১১ সালে সেখানে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয় তাকে। যেন নতুন জীবন পায়। নিজের চেষ্টা আর শিক্ষকদের সহায়তায় চলতে থাকে পড়াশোনা।

সেই অদম্য সংগ্রামের ফল সে পেয়েছে। গতকাল সোমবার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ–৪ দশমিক ৫৬ পেয়ে পাস করেছে সে। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায়ও সে এ গ্রেডে পাস করেছিল।

শুধু আবিদুর নয়, শিক্ষা উপকরণ, পরীক্ষাপদ্ধতি, শ্রুতলেখক সমস্যাসহ নানা বাধা ডিঙিয়ে এ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দেওয়া আট দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীই সাফল্যের সঙ্গে পাস করেছে। তাদের মধ্যে এ গ্রেড পেয়ে পাস করেছে ছয়জন। 

বাকি দুজন এ মাইনাস গ্রেড পেয়ে পাস করেছে। শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের স্বীকৃতি না থাকায় তারা চট্টগ্রাম সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থী হিসেবে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। তাই তারা সবাই হামজারবাগ রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা দেয়।

নিজের ফলাফলে অনেক খুশি আবিদুর। সে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলে, একসময় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মন খারাপ হয়েছিল। আজ এসএসসি পাস করতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। এখন তার স্বপ্ন আরও বড় লক্ষ্যের দিকে। ভর্তি হতে চায় চট্টগ্রামের কোনো এক সরকারি কলেজে। এরপর এইচএসসি পাস করে যেতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়ে।

গতকাল দুপুরে সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রাবাসে গিয়ে পাওয়া যায় মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানকে। সে ৪ দশমিক ২৮ পেয়ে এবার এসএসসি পাস করেছে। ছাত্রাবাসের অন্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছিল সে।

হাসানুজ্জামান প্রথম আলোকে বলে, নিজের প্রচেষ্টা, বাবা-মা আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় এত দূর আসা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি শ্রুতলেখকদেরও ধন্যবাদ দেয় সে।

এ ছাড়া অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাহি জি চৌধুরী জিপিএ–৪ দশমিক ৩৯, আনিকা তাবাস্সুম ৪ দশমিক ৪ দশমিক ২২, মেহেরুন্নেসা ৪ দশমিক ০৬, রিফা আক্তার ৪ দশমিক ০০, ফাতেমা আক্তার ৩ দশমিক ৯৪ ও শিল্পী আক্তার ৩ দশমিক ৮৩ পেয়ে পাস করেছে।

শিক্ষার্থীদের সাফল্যে শিক্ষকেরাও খুশি। গতকাল দুপুরে সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওদের সন্তোষজনক ফলাফলে তাঁরা খুশি। যদি আরও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়, তাহলে এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও ভালো জায়গায় যাবে।

সূত্রঃ- প্রথম আলো

কেন্দ্রসচিবের ভুলে অকৃতকার্য ৬৮

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

কেন্দ্রসচিবের দায়িত্বহীনতার কারণে নড়াইল সদর উপজেলার চালিতাতলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৭ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮ জনই কৃতকার্য হতে পারেনি। এ ঘটনায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা গতকাল সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধ্রুব কুমার ভদ্র বলেন, ‘এবার বিদালয় থেকে ৭৭ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে নিয়মিত ৭১ জন এবং অনিয়মিত ৬ জন। গতকাল প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, অনিয়মিত ৬ জন এবং নিয়মিত ৩ জন পরীক্ষায় পাস করেছে। বাকি পরীক্ষার্থীরা ফেল করেছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নড়াইল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে তাদের পরীক্ষা দিতে হয়। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের (আইসিটি) পরীক্ষার ব্যবহারিক নম্বর কেন্দ্রসচিবের কাছে যথারীতি পাঠানো হয়। কেন্দ্রসচিব আমাদের পরীক্ষার্থীদের আইসিটির ব্যবহারিক নম্বর যশোর শিক্ষা বোর্ডে না পাঠানোর কারণে সব পরীক্ষার্থীকে অকৃতকার্য ঘোষণা করা হয়। এ খবর পেয়ে পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।’

অভিভাবক আইউব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েদের জীবনটা নষ্ট করে দিল।’ পরীক্ষার্থী তাঞ্জামুল ইসলাম ও ফারজানা খানম বলে, ‘প্রতিদিন প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূর থেকে নড়াইল শহরে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। আমাদের ব্যাপারে এমন ঘোষণা মেনে নেওয়া যায় না।’

কেন্দ্রসচিব নড়াইল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিতোষ কুমার দে বলেন, সার্ভারে সমস্যা থাকায় কেন্দ্রের আইসিটির দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আইসিটির ব্যবহারিক নম্বর যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে পারেননি। যে কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক আঞ্জুমান আরা খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তিনি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নম্বরগুলো বোর্ডে নিয়ে এলে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

সূত্রঃ- প্রথম আলো

ছেলেদের পেছনে ফেলে আরও এগিয়ে মেয়েরা

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পায়নি সামিয়া, পেয়েছে জিপিএ–৪.৭২। তবু মায়ের খুশির কমতি নেই। ফলাফল শুনে মেয়ের কপালে চুমু এঁকে দেন মা। গতকাল রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ফল প্রকাশের পর। ছবি: হাসান রাজা

• এসএসসিতে গড় পাসের হার ৮২.৮০
• পাসের হার ৩.৪০ শতাংশ বেড়েছে 
• এবারের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ কমেছে 
• জিপিএ-৫ কমেছে ৮ হাজার ২৮৯ 
• দুই সূচকেই মেয়েরা এগিয়ে আছে

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের অংশগ্রহণ ও সফলতার চিত্র দৃশ্যমান। এর মধ্যে বড় অগ্রগতি মাধ্যমিক স্তরে, যেখানে প্রায় প্রতিবছরই ছাত্রীরা নিজেদের গড়া রেকর্ড অতিক্রম করছে। এ বছরও মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ ৫—দুই সূচকেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এমনকি বিজ্ঞানশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে।

এবার ফলাফলের ভালো–মন্দ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে গণিত। যেসব বোর্ডে পাসের হার কমেছে বা পিছিয়ে আছে, সেগুলোর শিক্ষার্থীরা গণিতে খারাপ করেছে। যদিও আরেক ‘কঠিন’ বিষয় ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে। সব বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৯০ শতাংশের ওপরে। এসএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন অভিভাবকেরা ছেলে–মেয়েকে আলাদাভাবে দেখেন না। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের ফলে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে বাবা-মা ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। তবে তাঁদের মতে, প্রান্তিক পর্যায়ে এখনো মেয়েরা পিছিয়ে। আর গণিতের বড় সমস্যা হলো মানসম্মত পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই।

৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার গতবারের চেয়ে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫২ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৪ লাখ ৩ হাজার ১৫৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪ হাজার ৫৫৬ জন, যা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৪৫ জন। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার বাড়লেও ফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ হাজার ২৮৯।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এই তিন পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে থাকায় ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুঠোফোনে কথা বলে ও বাণী দিয়ে পাস করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। আর যারা পাস করতে পারেনি, তাদের সাহস দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর প্রমুখ।

ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার এসএসসিতে ছাত্রীদের পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর ছাত্রদের পাসের হার ৮২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। ৪৮ হাজার ৫৯১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর ছাত্ররা পেয়েছে ৪৫ হাজার ৯৬৫ জন। এ বছর ৮ বোর্ডে ছাত্রদের চেয়ে ২ হাজার ৬২৬ জন ছাত্রী বেশি জিপিএ-৫ পেল।

কেবল ৮ বোর্ডেই নয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়েও ছাত্রীরা পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, এখন সব মা–বাবাই চান তাঁর মেয়েটিও (যদি থাকে) পড়াশোনা করুক। এখানে উপবৃত্তি বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হওয়ায় শিক্ষার ওপরের স্তরেও মেয়েরা ভালো করছে। কিন্তু তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, শহরকেন্দ্রিক সচেতনতা বেশি বাড়লেও প্রান্তিক এলাকায় এখনো মেয়েরা পিছিয়ে আছে। মাধ্যমিকে মেয়েদের ঝরে পড়ার হারও বেশি, যাদের বেশির ভাগই প্রত্যন্ত এলাকার। এ জন্য ওই সব এলাকায় বিশেষ নজর দিতে হবে।

এবার বিজ্ঞানে মোট পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। এর মধ্যে ছাত্রী ছিল প্রায় আড়াই লাখ। কয়েক বছরে বিজ্ঞানে ছাত্রীদের পড়ার আগ্রহ বেড়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব তপন কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মূল্যায়ন হলো, আগে মেয়েরা বিজ্ঞান শাখায় তুলনামূলক কম আসত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই শাখায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। আর জিপিএ-৫ সাধারণত বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাই বেশি পায়। ফলে মেয়েদের জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। 

বিজ্ঞানে পাস ও জিপিএ–৫ বেশি
৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা মিলিয়ে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে ৯১ হাজার ৩৩ জনই বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ২৭ শতাংশই বিজ্ঞানের। ব্যবসায় শিক্ষায় ২ হাজার ৮৭ জন এবং মানবিক শাখা থেকে ১ হাজার ৪৩৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পাসের হারেও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। এসএসসিতে গড় পাসের হার যেখানে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ; সেখানে বিজ্ঞানে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। মানবিকে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩২ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৮৩ শতাংশ।

গণিত নিয়ামক
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফলাফল ভালো–মন্দ নির্ধারণে গণিতই বড় ভূমিকা রেখেছে। যেমন সব বোর্ডে পাসের হার বাড়লেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, এই বোর্ডে এবার গণিতে পাসের হার অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ কম। গণিতে এবার এই বোর্ডে ৮৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। যেখানে অন্য বিষয়ে পাসের হার ৯১ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত। গতবার এই বোর্ডে গণিতে পাসের হার ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ।

আবার পাসের হারে তলানিতে থাকা সিলেট শিক্ষা বোর্ডে গণিতে পাসের হার মাত্র ৭৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে গণিতে পাসের হার প্রায় ৮২ শতাংশ। এই বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা ৮ বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। পিছিয়ে থাকা চট্টগ্রাম বোর্ডেও গণিতে পাসের হার কম।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা মূল্যায়ন করে দেখেছেন, মূলত গণিতে পাসের হার গতবারের চেয়ে কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ঢাকা বোর্ডের পাসের হারের ওপর। সব বোর্ডের গড় পাসের ওপরও প্রভাব ফেলেছ গণিতের ফল।

পিছিয়ে মফস্বল
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঢাকাসহ ১৭টি জেলার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। জেলাভিত্তিক ফলাফল মূল্যায়নে দেখা গেছে, মফস্বলের জেলাগুলোর শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে। বিপরীতে ঢাকা মহানগরী, ঢাকা জেলা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে। যেমন ঢাকা মহানগরীতে পরীক্ষা দিয়েছিল ৯৩ হাজার ৩০৭ জন। তাদের মধ্যে ৮৮ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪০১ জন। অথচ ১৭ জেলায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ৬৮৭ জন।

অন্যদিকে মাদারীপুরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৫ জন। ফরিদপুরে পাসের হার ৬৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০৬ শতাংশ। অথচ ঢাকা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সূত্রমতে, অন্য বোর্ডের চিত্রটিও কমবেশি একই ধরনের।

বিদেশের কেন্দ্রে পাস ৯২ শতাংশ
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিদেশের ৮টি কেন্দ্রে গড় পাসের হার ৯১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এসব কেন্দ্রে অংশ নিয়েছিল ৪২৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৩৮৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬ জন।

কেন্দ্রগুলো হলো জেদ্দার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, রিয়াদের বাংলাদেশ এমবাসি স্কুল, ত্রিপোলির বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুল, দোহার বাংলাদেশ মাশহুর-উল-হক মেমোরিয়াল হাইস্কুল, আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল, বাহরাইনের বাংলাদেশ স্কুল, রাস আল খাইমার বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল এবং ওমানের সাহামের বাংলাদেশ স্কুল।

সেরা রাজশাহী, পিছিয়ে সিলেট
৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফল তুলনা করে দেখা যায়, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এবারও পাসের হারে এগিয়ে। এই বোর্ডে পাসের হার গতবারের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পাসের হারে গতবারও এই বোর্ড এগিয়ে ছিল।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, রাজশাহী বোর্ড ধারাবাহিকভাবেই ভালো করছে। তাঁর মূল্যায়ন হলো, তাঁদের বোর্ডের অধীন রাজশাহী জেলা ছাড়াও বগুড়া ও পাবনার শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। তদারক ব্যবস্থাটা জোরদার রাখছেন।

আবার সিলেট বোর্ড গতবারের মতোই সবচেয়ে পিছিয়ে। এসএসসিতে গড় পাসের হার যেখানে প্রায় ৮৩ শতাংশ, সেখানে সিলেটে এই হার ৭০ দশমিক ৮৩। অবশ্য ঢাকা বাদে বাকি সব বোর্ডেই গতবারের চেয়ে পাসের হার কিছু বেড়েছে।

এবার ১০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। তবে ২ হাজার ৫৮৩টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে।

সূত্রঃ- প্রথম আলো

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা: জিপিএ-৫ পেল তাওসিফ

নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের Facebook Group-এ জয়েন করুন

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল ইফতি আকবর তাওসিফ। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সেই তাওসিফ এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল তাওসিফের। সেদিন ভোরেই তার বাবা নাজিম উদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এরপর সকাল নয়টার দিকে তাঁর লাশ পেকুয়া উপজেলার পূর্ব গোঁয়াখালীতে তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। নাজিম উদ্দিন পূর্ব গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

সেদিন বাবার লাশ একনজর দেখেই পরীক্ষা দিতে এসেছিল তাওসিফ। সোমবার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে তাওসিফ বলে, ‘যখন প্রাইমারিতে পড়ি তখন বাবা ক্লাসে সব সময় বলতেন, বাড়িতে কেউ মারা গেলেও তার লাশ এক পাশে রেখে ক্লাসে যেতে হবে, পরীক্ষা দিতে হবে। আল্লাহ বাবার সেই কথাটি আমার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করেছেন। জীবিত বাবার চেয়ে মৃত বাবা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন বেশি। পরীক্ষা দিয়ে আমি কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছি। এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’

চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় তাওসিফ এর আগে জেএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ সহ বৃত্তি পেয়েছিল। তার বড় ভাই ফয়জুল আকবর তোয়াহা চট্টগ্রাম বিএএফ শাহীন কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে ও তৃতীয় ভাই তাহফিমুল আকবর চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। সবার ছোট ভাই ইসরাক বিল্লাহর বয়স মাত্র চার বছর।

তাওসিফের চাচি ও তার বাবার ছাত্রী শাকেরা বেগম বলেন, ‘গোঁয়াখালী এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে স্যারের অবদান ছিল খুব বেশি। বিদ্যালয়টি বেসরকারি থাকা অবস্থায় আর্থিক অনটনের মধ্যেও স্যার নিয়মিত ক্লাস চালিয়ে নিতেন। স্যারের ছেলেরাও খুব মেধাবী। এখন সংগ্রাম চালাতে হবে যাতে বাচ্চাগুলোর পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়া যায়।’

সূত্রঃ- প্রথম আলো

পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে তামান্না

জন্ম থেকে দুটি হাত নেই তামান্না আক্তারের। নেই ডান পা। আছে শুধু বাম পা। সেই পা দিয়েই লিখে এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। গতকাল সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষার ফলে তামান্না জিপিএ-৫ পেয়েছে ।

তামান্না আক্তার যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীনের মেয়ে। উপজেলার বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তামান্না। ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেই এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল সে।

তামান্নার বাবা রওশন আলী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মা খাদিজা পারভীন গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তামান্না সবার বড়। ছোট বোন মুমতাহিনা রশ্মি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ভাই মুহিবুল্লা তাজের বয়স চার বছর।

তামান্না আক্তার বলে, ‘পরীক্ষার ফলাফলে আমি খুব খুশি। আমার ইচ্ছা ভালো মানুষ হওয়ার। আমি মানুষের সেবা করতে চাই। মা-বাবা ছাড়াও স্কুলের স্যার ও বন্ধুরা আমাকে সহযোগিতা করেছে। সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

তামান্নার মা খাদিজা পারভীন বলেন, ‘২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তামান্নার জন্ম। ওর জন্মের পর কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে ভেবেছি, ওকে কারও বোঝা হতে দেওয়া ঠিক হবে না

তামান্নাকে ঘিরে মায়ের লড়াইয়ের কথা উঠে এল মায়ের কথাতেই। খাদিজা বলছিলেন, ‘ছয় বছর বয়সে ওর পায়ে কাঠি দিয়ে লেখানোর চেষ্টা করলাম। কলম দিলাম। কাজ হলো না। এরপর মুখে কলম দিলাম। তাতেও কাজ হলো না। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম, ওকে পা দিয়েই লেখাতে হবে।’

বাবা-মা এরপর তামান্নাকে বাঁকড়া আজমাইন এডাস স্কুলে ভর্তি করান। মাত্র দুই মাসের মাথায় ও পা দিয়ে লিখতে শুরু করে। এরপর ছবি আঁকা শুরু করল। এ বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) জিপিএ-৫ পায় তামান্না। বৃত্তিও পায়। পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর তামান্নাকে বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় (জেএসসি) সে জিপিএ-৫ পায়। এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

মেয়ের ফলাফল মায়ের চোখে এনেছে আনন্দাশ্রু।

শুধু বাংলা ছাড়া সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে তামান্না। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ফলাফল জানানো হয়। সব বিষয়ে এ প্লাস না পাওয়ায় তার মন কিছুটা খারাপ হয়েছিল। মা–বাবা তাকে বুঝিয়েছেন। এখন সে খুব খুশি।

খুশি বাবা রওশন আলীও। বলছিলেন, ‘তামান্নার জন্মের পর থেকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের। তারপরও হাল ছাড়িনি। মেয়েটার জন্য কোনো কাজ করতে পারি না। সারাক্ষণ ওর দিকে খেয়াল রাখতে হয়। শরীরে একটা মশা পড়লেও ও তাড়াতে পারে না।’

প্রতিদিন রওশন-খাদিজা দম্পতি মেয়েকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে স্কুলে দিয়ে আসতেন। আবার ছুটি হলে হুইলচেয়ারে করে বাড়ি নিয়ে আসতেন। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাবা রওশন আলী। বললেন,‘আমি গরিব মানুষ। ওকে পড়ানোর কোনো সামর্থ্য নেই আমার।’

বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘পা দিয়ে লিখে সে পরীক্ষা দেয়। চৌকিতে বসে সামনে খাতা রেখে বাঁ পায়ের দুই আঙুলে রাখা কলম দিয়ে লিখে সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। সে অত্যন্ত মেধাবী। ওর লেখা স্পষ্ট, দৃষ্টিনন্দন।

সূত্রঃ- প্রথম আলো

SSC Result 2019 Bangladesh All Education Board Results.

SSC Result 2019 Bangladesh All Educatiob Board Results. SSC Result 2019 Bangladesh All Education Board will publish on may 2019. the secondary school certificate (SSC), Dhakil & equivalent examination 2019 under the vocation board started on Monday (February 1). more girls then boys are taking the school-leaving SSC Exams in Bangladesh this year.

A total of 20,31,899 student will appear in the Exams. of them,10,23,217 students are male & 10,08,687 female.there are 19,000 more girls then boys taking these Exams,Education minister education minister Nurul Islam Nahid has sais, reports BSS.

SSC Result 2019 BD Education Board Rssult.

At least 172,257 more student are going to attend the examinations then the previous years.student of 28,119 institutions will sit for the Exams in 3,143 centers, said nahid adding 404 student will take the Exams from eight centers abroad. students passed on this examination are provided SSC & given the chance to admit in collage . if you want to Get Fast your ssc Result form our website, then stay with us.you can easily get your SSC Result 2019 & SSC Scholarship Result 2019 easily from this blog. according to ministry of education Bangladesh. you can easily get your results from our website.

For the time 7 autistic student are participation the examination. education minister Nurul Islam Nahid made this assertion at a conference at his secretariat office in city regarding the upcoming examination . student with disability would get 20 extra minutes to complete exams with the help of their scribes & special children will have extra 30 minutes as will be allowed to be accompanied with parents ,teacher or helper, said Nahid .

The theoretical part of the examination will end on march 8 and the practical part will start on march 9, will continue till 14 march 2019. Nahid also brushed away allegation of teachers being instructed to give higher scores in an effort to improve the rate of success in SSC result 2018

When SSc Exam Result 2019 will published ?

post updated on 6 may: Last SSC Result 2014 published on may 17,2014 SSC Result 2015 may 30,2015, SSC result 2016 on 11th may,SSC result 2017 on 4th may , SSC result 2018 on 6th may & SSC exam result 2019 will be publish on 6th may 2019. so this year SSC result 2019 will be publish on 6th may is the fifth month of the year.

All Educatiob Board Results 2019

All Education Board Results 2019 : result will publish 6th May at 12:00 pm

SSC Result 2019 publish Date

SSC Result 2019 will be announced within 60 days of the exams, he said and also added the BTRC will take immediate measures if question are leaked in Facebook he further said that bangladesh telecommunication Regulatory commmission (BTRC) autrough any social medis especially Facebook : “Bd-jobs20”

HSC Exam Routine 2019.[PDF file] : “Click here “

How to Get SSC Result 2019 via online or website .

on the result day , after 2:00 pm the ssc result 2019 will be publishing on allresultBD.com from online , the ssc results 2019 will publish in the official website of secondary education board. It will be available after noon on 6th may 2019. To get SSC exam result, you must visit the official website of Bangladesh Education board result : www.educationboardresults.gov.bd

here is the alternative way to get your result quickly and very fat and easily. you will show you the result by finding from the education board archive . you will get some boxes like education board . there select name of the examination , year of examination, name of your education board and write the ssc rool number & registration number in another box and type captcha code. finally click on submit Button . try twice or 3 times. Hope you’ll get your result very easily.

National University Honours 4th year Exam Routine & Center List 2019 nu.ac.b : “Click Here” 

How you check SSC Result 2019 by SMS mobile?

Get your SSC Result 2019 through you mobile phone by sms, 1st you have to go to message option and type SSC/alim <> First three letter of your Board name <> Roll no <> and send to 16222.

SSC Result 2019 Mark sheet

you should find your result here with mark-sheet. here is ssc result 2019 with mark-sheet. also find your Dhakil result with mark-sheet . this is very important to show marsheet. Because some time you have knoe that, what grading you are got . then marksheet will help you to find your GPA

The secondary school certificate (ssc), Dhakil & All Education 2019 undder 10 education boards started on Monday (February 1). All education board results are given below

National University Masters Admission Notice 2019 [Regular] : “Click Here”

Dhaka Board Result 2019 :
Board of Intermediate and Secondary Education, Dhaka, an autonomous organization, mainly responsible for holding two public examinations (SSC & HSS) and for providing recognition to the newly established non-govt. educational institutions and also for the supervision, control and developments of those institutions. www.dhakaeducationboard.gov.bd

To get more information Click our group page : “Click Now”

Jessore Board Result 2019 :
The Board of Intermediate and Secondary Education, Jessore was established in 1963 in the month of October by the Govt. order no 737 Education, dated 30-09-1963 under the section of the then east pakistan ordinance no XXXIII of 1961. The Board had no buildings of its own during the period of establishment. It started functioning in the hostel of junior Teachers’Training College, Jessore. Then its name was “Board of Intermediate and Secondary Education, Khulna Division, Jessore. In 1965 it was named as Board of Intermediate and Secondary Education, Jessore. www.jessoreboard.gov.bd

Rajshahi Board Result 2019 :
According to the East Pakistan Intermediate and Secondary Education Ordinance, No.XXXIII of 1961 and its amendments No. XVI of 1962 and No. XVII of 1977, the Board is responsible for the organization, regulation, supervision, control and development of Intermediate and Secondary level public examinations and educational institutions. www.rajshahieducationboard.gov.bd

Comilla Board Result 2019 :
According to the ordinance of the board, The East Pakistan Intermediate and Secondary Education Ordinance, 1961 (East Pakistan Ordinance No. XXXIII of 1961) and its amendments No. XVI of 1962 and No. XVII of 1977, it is responsible for the organization, regulation, supervision, control and development of Intermediate and Secondary level public examinations and educational institutions. comillaboard.portal.gov.bd

Chittagong Board Result 2019 :
Welcome to Chittagong Education Board. It was established on 15th May, 1995 and commenced functioning from 1st July, 1995 for strengthen and expansion of supervision of Secondary Education and Higher Secondary Education Examinations.
View Chittagong Education Board’s website from this link www.bise-ctg.gov.bd

Barisal Board Result 2019 :
Barisal Education Board (SR and no 250 law -99) Branch -11/(1) 98- ISEO) deals with schools and colleges of the Districts, Barisal, Patuakhali, Bhola. Pirojpur. Barguna and Jhalakathi of Barisal Division. It was established on August 23,1999/ Bhadra 08, 1406 according to Section 03 A(1) of 1961 Ordinance. Barisal Education Board is established to hold S.S.C and H.S.C examinations and to ensure the registration process easier for the students of Secondary and Higher secondary level of this region. It was very difficult and expensive for the teachers of this region to go to Jessore Board for Completing their necessary official activities. As a result Barisal Secondary and higher secondary Education Board was established. Its first working day was on November 16, 1999. www.barisalboard.gov.bd

Sylhet Board Result 2019 :
According to the ordinance of the board, The East Pakistan Intermediate and Secondary Education Ordinance, 1961 (East Pakistan Ordinance No. XXXIII of 1961) and its amendments No. XVI of 1962 and No. XVII of 1977, it is responsible for the organization, regulation, supervision, control and development of Intermediate and Secondary level public examinations and educational institutions. sylhetboard.gov.bd

Madrasah Board Result 2019 :
According to the ordinance of the board, The Madrasah Education Ordinance, 1978 (Ordinance No. IX of 1978), it is responsible for the organization, regulation, supervision, control and development and improvement of Dakhil, Alim, Fazil and Kamil level public examinations and educational institutions. www.bmeb.gov.bd

Technical Board Result 2019 :
Bangladesh Technical Education Board (BTEB), Dhaka, an autonomous organization. BTEB is playing an important role for human resource development. BTEB has a role for setting quality standard, quality control and development of technical education in Bangladesh. BTEB is always looking for appropriate training for the youth, which is helpful for job searching and for self-employment and to adjust the changing situation in the job market with the rapid change of technology. Responsibility of BTEB is to holding two public examinations [S.S.C (Vocational) & H.S.C (BM)] and other 73 examinations of different curriculum and providing recognition of the newly institutions and also supervision control and development of all institutions under the Board. www.bteb.gov.bd